


AP-6021
কৃষি
বিকোফসফাইড ৫৭% টিবি বাতাসের সংস্পর্শে বিষাক্ত ফসফিন গ্যাস তৈরি করে যা গুদামজাত মালপত্রের ক্ষতিকারক সকল পোকামাকড় ধ্বংস করে এবং অ্যামোনিয়ার গন্ধ বিপজ্জনক ও কার্বন ডাইঅক্সাইড আবহাওয়ায় নিষ্ক্রিয় প্রভাব সৃষ্টি করে। বিকোফসফাইড ৫৭% টিবি ব্যবহার করা এতটাই সহজ যে, এর জন্য আধুনিক কোন সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া গুদামজাত বিপুল পরিমাণ মালপত্র সুরক্ষায় এর ব্যবহার বিশেষভাবে কার্যকরী। এই ট্যাবলেটের কার্য শেষের প্রভাব বিষাক্ত বা বিপজ্জনক নয়। বিকোফসফাইড ৫৭% টিবি বাষ্প প্রয়োগ করা মালপত্রে কোন রকম দূর্গন্ধ বা ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলেনা।
ফসল - গম (Wheat) পোকার নাম - উইভিল (গুবরে পোকা) (Sitophilus) অনুমোদিত মাত্রাঃ প্রতি মেট্রিক টনে ৪টি করে ট্যাবলেট দেয়ার পর কত দিন রাখবেনঃ ৭ দিন দেয়ার পর কত সময় অপেক্ষা করবেনঃ প্যাক ভর্তি স্টকে ৪৮ ঘন্টা, ব্যাগ ভর্তি স্টকে ১৫ দিন। স্তূপ আকারে মালে প্রয়োগঃ প্রোব বা একটি অটোমোটিক ডিসপেন্সার দিয়ে এটি প্রয়োগ করেই অবিলম্বে গ্যাস প্রুফ ঢাকনা দিয়ে কিংবা সাইলো এয়ার-টাইটট করে নিশ্ছিদ্র অবস্থায় বন্ধ করুন। প্যাক বন্ধ অবস্থায় মালপত্রে প্রয়োগঃ হাতে না ছুঁয়ে একটা ট্রেতে নির্দিষ্ট কাছাকাছি দুরত্বে ট্যাবলেট গুলো মালপত্রের পাশে বা তলায় দিয়ে শীটের চারপাশে মুড়ে নিশ্চিদ্র করে ঢাকুন। খালি জায়গায় প্রয়োগঃ কলকারখানা / গুদামঘরে দিতে, আগাগোড়া নিশ্চিদ্র করে ঢেকে জায়গা পরিমাপ ও পরিবেশ অনুযায়ী একটা ট্রেতে ট্যাবলেট গুলো নির্দিষ্ট কাছাকাছি দূরত্বে নিয়ে আনুমানিকভাবে ব্যবহার করুন।
সতর্কীকরণঃ অত্যন্ত বিষাক্ত ট্যাবলেট এবং খোলা অবস্থায় দ্রুত ফসফিন গ্যাস নির্গত হয়। এর কণা বা গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করবেন না। কোন ধাতব যন্ত্র দিয়ে এর কৌটা খুলবেন না, কারণ ঘর্ষনের ফলে আগুনের ফুলকি থেকে আগুন ধরে যেতে পারে। ব্যবহারের সময় সুরক্ষামূলক পোশাক পরে নেবেন। একা দিতে যাবেন না। প্রয়োগের জায়গায় ঢুকতে ফসফিন ডিটিক্টর স্ট্রিপ ব্যবহার করুন। ব্যবহারের সময় কোন কিছু খাবেন না বা ধুমপান করবেন না। প্রয়োগের জায়গায় সাবধানতা অবলম্বন করে নোটিশ দিন। কখনোই খোলা অবস্থায় রাখবেন না। মজুদকাল এবং বিনস্টিকরণ: বাচ্চাদের বা বিনা অনুমোদিত ব্যক্তির নাগালের বাহিরে, ঠান্ডা, শুকনো ও আলো-বাতাসযুক্ত জায়গায় তালা চাবি দিয়ে এটিকে মজুদ রাখবেন। এর খালি কৌটা ভালভাবে দোষ-মুক্ত করবেন। প্রয়োগের কাজ শেষ হলে ট্যাবলেটের গুড়োর অবশিষ্টাংশ সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে, ধোয়ানি পানি নিরাপদ জায়গায় ফেলে দিন। জলধারা, নর্দমা বা পুকুর-নালা দুষিত করবেন না। যেহেতু এর ব্যবহার ও প্রয়োগ পদ্ধতির কোনটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, সেহেতু এর ব্যবহারে মালপত্রের, ব্যক্তির এবং জীবজন্তর কোনরূপ ক্ষতির জন্য আমরা দায়ী থাকিব না। বিষক্রিয়ার লক্ষণঃ মাথা যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বমি, কানের তালাধরা, শ্বাসকষ্ট, আন্ত্রিক যন্ত্রণা। উল্লেখিত বিষক্রিয়ার লক্ষণের বেশিমাত্রার উপসর্গ হল শুকনো কাশি, পেট খারাপ, অত্যধিক তৃষ্ণা বোধ, অত্যন্ত ঘাম এবং খিঁচুনী। অল্পমাত্রায় বিষক্রিয়ার রোগী ১–২ ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। অল্প সময় ব্যবধানে আবার সংস্পর্শে আশা বিপদজনক। তবে বিষক্রিয়ার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ঘটার সম্ভাবনা নেই। প্রাথমিক চিকিৎসাঃ যদি নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে চলে যায় তাহলে, রোগীকে অবিলম্বে খোলা জায়গায় নিয়ে গিয়ে উষ্ণতার আরামে রাখুন। আর পেটে চলে গেলে লবন মিশ্রিত গরম পানি পান করিয়ে বমি করান এবং অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রতিষেধক: ১) যদি নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে চলে যায় তাহলে, অবিলম্বে যথেষ্ট অক্সিজেন দেয়ার ব্যবস্থা করুন। ব্রংকোডায়ালেটর এবং ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। ৫০-১০০ সি. সি. ৭.৫% সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ইনট্রতেনাস্ ইঞ্জেকশন দিয়ে বাইল্স টিউব দিয়ে খাইয়ে প্রস্রাব পরিস্কার রাখুন। ২) যদি পেটে চলে যায়, তাহলে বমনোদ্রেকর কপার সালফেন্ট সলিউশন ০.২% খাইয়ে বমি করান, দেই সাথে অদ্রাব্য কিউপ্রিক ফসফাইডের উৎপন্ন হয় এবং এটা দূর করতে ১:৫০০০ পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্রবন দিয়ে দাস্ত করিয়ে পেট পরিস্কার করান। এক আউন্স মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া বা ২/৩ টি ডিমের সাদা অংশ ফাটিয়ে খাওয়াতে পারেন। চর্বি বা তেলজাতীয় কিছু দেবেন না। ডাক্তারের উদ্দেশ্যেঃ অত্যন্ত বিষাক্ত। যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে যকৃৎ, বৃক্ক, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র এবং সংবহন তন্ত্রের ক্ষতি করে। ফসফিন বিষক্রিয়া থেকে হতে পারে- (১) লাংস পালমোনারী এডিমা (২) লিভার-এলিভেটেড্ সিরাম গট, এলডিএইচ এবং ফারীয় ফসফাটেজ, প্রোগ্রমবিন অল্পতা, হেমারেজ এবং জন্ডিস, বৃক্ক-হেমাটুরিয়া এবং এনিউরিয়া। প্যাথোলজির বিশেষত্ব হল হাইপোক্সিয়া। কিছু দিন বা কয়েক সপ্তাহে ঘন ঘন অল্প অথচ পারমিসিবল লেভেলের চেয়ে বেশি ঘনত্বের সংস্পর্শ হলে বিষক্রিয়া হয়। প্রচন্ড বিষক্রিয়ায় ক্ষতি হয়।